Festival Special Trains: উৎসবের মরসুমে ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দিতে এবং যাত্রা সুনিশ্চিত করতে ভারতীয় রেল একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দীপাবলি ও ছট পুজো উপলক্ষে যাত্রীদের সুবিধার্থে উত্তর পশ্চিম রেলওয়ে এবং সেন্ট্রাল রেলওয়ে মোট ১,৭০০-এরও বেশি বিশেষ ট্রেন চালানোর কথা ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
উত্তর পশ্চিম রেলওয়ের বিশেষ প্রস্তুতি
উত্তর পশ্চিম রেলওয়ে উৎসবের মরসুমে যাত্রীদের চাপ সামলাতে মোট ৪৪ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করেছে। এই ট্রেনগুলি মুম্বই, পুনে, হাওড়া এবং বিহারের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন রুটে চলাচল করবে।
উত্তর পশ্চিম রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক, ক্যাপ্টেন শশী কিরণ জানিয়েছেন, “প্রয়োজনে আরও বিশেষ ট্রেন চালানোর বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি। অনুমোদন পেলেই অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হবে।”
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা:
- নিয়মিত প্রায় ৬০টি ট্রেনে ১৭৪টি অতিরিক্ত কোচ যোগ করা হয়েছে।
- জয়পুরের মতো বড় স্টেশনগুলিতে প্ল্যাটফর্মের ভিড় এড়াতে বিশেষ হোল্ডিং এরিয়া তৈরি করা হয়েছে।
- যাত্রীদের সুবিধার জন্য এনজিও, স্কাউট ও গাইড সদস্যদের সাথে রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্সের (RPF) অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
- আপাতত প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে এবং আগে এলে হোল্ডিং এরিয়াতে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেছে।
সেন্ট্রাল রেলওয়ের ব্যাপক উদ্যোগ
একইভাবে, সেন্ট্রাল রেলওয়েও দীপাবলি ও ছট পুজো উপলক্ষে যাত্রীদের জন্য ১,৭০২টি বিশেষ ট্রেন চালানোর কথা ঘোষণা করেছে। সেন্ট্রাল রেলওয়ের মুখপাত্র স্বপনিল নিলা জানান, এই ট্রেনগুলি ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, লোকমান্য তিলক টার্মিনাস, পুনে, কোলহাপুর এবং নাগপুর থেকে ছাড়বে।
এর মধ্যে ৮০০-রও বেশি ট্রেন চলবে উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রুটে। বড় স্টেশনগুলিতে প্রায় ৩,০০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার হোল্ডিং এরিয়া তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পানীয় জল, খাবার, শৌচাগার ও পাখার মতো সুবিধা রয়েছে। যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমাতে মোবাইল UTS পরিষেবা এবং অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টারও খোলা হয়েছে।
ভুয়ো ভিডিওর বিরুদ্ধে কঠোর রেল
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পুরনো বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
- ইতিমধ্যে ২০টিরও বেশি এমন অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্য একটি বিশেষ সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে যে তারা যেন যাচাই না করে কোনও ভিডিও বা তথ্য শেয়ার না করেন। শুধুমাত্র ভারতীয় রেল মন্ত্রকের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল (@RailMinIndia) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর বিশ্বাস রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


